কাফির, মুনাফিক এবং বর্তমান তাগুত প্রশাসনের দৃষ্টিতে, যারা জিহাদের পক্ষে কথা বলে; তারাই জঙ্গি এবং তারাই সন্ত্রাসী। অথচ জিহাদ কেবল মাত্র জঙ্গিবাদকে দমন করার জন্যই পরিচালনা করা হয়।
তাই যারা ইসলামকে বিকৃত করার জন্য, জিহাদের দোহাই দিয়ে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করেন তাদের বলছি: জিহাদ এবং জঙ্গিবাদ এক নয়।
সাহাবীদের কাছে জিহাদ মানে ছিল: মিথ্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা। তাই তারা আরবের কাফের/মুশরিকদের সাথে জিহাদ করেছিলেন।
কোরআনে আল্লাহ তায়ালা সকোল যুদ্ধকে ২ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথমটি হলো আল্লাহর পথে ঈমানদারদের যুদ্ধ, অপরটি তাগুতের পক্ষে কাফেরদের যুদ্ধ। সংক্ষেপে তাগুত হচ্ছে সেই সত্তা বা উপাস্য যাকে আল্লাহর পাশাপাশি ইবাদত করা হয়। অথবা সেই সীমালংঘনকারী যে নিজেকে এমন আনুগত্য বা কর্তৃত্বের আসনে দাবি করছে যা কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট বা প্রযোজ্য।
স্রেফ মানুষ হত্যা করা জিহাদের উদ্দেশ্য নয়। ইসলামের ভাষায় জিহাদ শব্দটির অর্থ হলো: যারা আল্লাহর শত্রু তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করতে যুদ্ধ করা। এক কথায়: আল্লাহর পথে আল্লাহর বাণীকে সর্বোচ্চ আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ আর যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তোমরাও তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর, তবে সীমালংঘন করো না, নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীকে ভালোবাসে না। [২:১৯০]
আর যেখানেই পাও তাদের হত্যা করা এবং যে স্থান হতে তোমাদেরকে বহিস্কার করেছে, তোমরাও তাদেরকে সেই স্থান থেকে বহিষ্কার কর। ফেতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর। আর কাবার নিকট তোমরা যুদ্ধ করো না যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। যদি তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তবে তোমরা তাদেরকে হত্যা করবে। এটি হলো অবিশ্বাসীদের পরিণাম। [২:১৯১]
আর তোমরা যুদ্ধ করতে থাক, যতক্ষণ না বিপর্যয় দূর হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত না হয়, কিন্তু যদি তারা বিরত হয়, তবে অত্যাচারীদের ব্যতীত আর কাউকে আক্রমণ করবে না। [২:১৯৩]
শুধু মাএ এই ২টি আয়াতের দিকে যদি আমরা লক্ষ করি তাহলে দেখতে পাই: কাফির/মুশরিকরা যখন মুসলিমদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করেছে, তখনই আল্লাহ মুসলিমদের যুদ্ধের জন্য আদেশ করেছেন। ঠিক আজকের দিনেও কাফির-মুশরিকরা মুসলিমদেরকে অন্যায় ভাবে গণহত্যা করে চলেছে। এজন্যই আল্লাহ কঠোর ভাবে জিহাদের আদেশ করেছেন।
কোরআনে আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন: আল্লাহর রহে যুদ্ধ করতে থাকুন, আপনি নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ের জিম্মাদার নন। আর আপনি মুমিনদেরকে উৎসাহিত করতে থাকুন, শীঘ্রই আল্লাহ কাফেরদের শক্তি-সামর্থ্য খর্ব করে দেবেন। আল্লাহ শক্তি-সামর্থ্যের দিক থেকে অত্যন্ত কঠোর এবং কঠিন শাস্তি দাতা। [৪:৮৪]
কাফিররা যেহেতু মুসলিমদের উপর জুলুম করেছে, তাই আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতে জিহাদের কথা বলেছেন। কারণ একজন মুসলিম কখনো জুলুম আর অন্যায়ের শাসন মেনে নিতে পারে না। ইসলাম ছাড়া অন্য সকল ধর্ম আর মতাদর্শ হলো মিথ্যা। তাই ইসলাম অন্য কোন ধর্ম বা মতাদর্শ কে স্বীকৃতি দেয় না। যদি হিন্দু ধর্ম বা খ্রিস্টান ধর্মের কথা বলা হয় তাহলে দেখব এই ধর্ম গুলো মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে। এই ধর্মগুলোর শাসন মানুষের উপর জুলুম করেছে। আর এই জুলুম কে দমন করার একটাই পথ: জিহাদ ফি-সাবিলিল্লাহ।
জিহাদ ফি-সাবিলিল্লাহ অর্থ হচ্ছে আল্লাহর পথে জিহাদ অথবা আল্লাহর জন্য জিহাদ। যার উদ্দেশ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। জিহাদ সম্পর্কে কোরআনে অনেক আয়াত রয়েছে যা সংক্ষেপে আলোচনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে ভিডিও এবং লেখালেখির মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।
সর্বশেষ বিধর্মী এবং মুনাফিকদের উদ্দেশ্যে একটা কথা বলতে চাই; ধরুন আপনার বাবা-মাকে কেউ অন্যায় ভাবে হত্যা করল বা কোন বিষয়ে জুলুম করলো। সে ক্ষেত্রে আপনি কি করবেন? অবশ্যই চুপ করে বসে থাকবেন না। ঠিক তেমনি ভাবে মুসলিমদের উপর আজ যখন অন্যায় ভাবে অত্যাচার/গুম/খুন করা হয়, তখন মুসলিমরা তো (আপনার মত) প্রতিবাদ করবেই। আর এই প্রতিবাদের নামই জিহাদ। এখন প্রতিবাদ করলেই যদি আপনারা তাকে জঙ্গী বা সন্ত্রাস বলেন তাহলে আপনারাই তো বড় জঙ্গি। অথচ আক্রমণ আগে কে করেছিল? আপনারাই করেছিলেন। আপনার আগে আক্রমণ করলেন, তারপর আল্লাহ আমাদেরকে প্রতিবাদ করতে বললেন, আমরা প্রতিবাদ (জিহাদ) করলাম।
বিধর্মী (তাগুত/মুনাফিক) ভাইয়েরা আপনাকে বোঝানোর জন্য এর থেকে ভালো সংজ্ঞা আমার কাছে আর নাই। তাই গাধার মত কথা বলবেন না, আগে বুঝুন তারপর কথা বলুন। আরেকটা বিষয় মনে রাখবেন; সত্যকে খুঁজলে সত্যকে পাওয়া যায়! কাজেই মিথ্যাকে অনুসরণ করে চিরকাল জাহান্নামে থাকার ঝুঁকি নিবেন না। ধন্যবাদ।।
ইসলামই সত্য ধর্ম - আর ইসলামেরই জয় হবে, ইনশাআল্লাহ।।
বি.দ্র. তাগুত/কাফির/মুনাফিকদেরকে বলছি সত্যর পথটা কঠিন হলেও সর্বশেষে সত্যেরই জয় হয়। কথাটা মনে রাখবেন।

0 Comments